১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১রবিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১রবিবার

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইনজেকশনও বাঁচাতে পারলো না এক বছরের শিশুকন্যাকে

মাত্র এক বছরের শিশুকন্যা বৈদিকা সৌরভ শিন্দে। এক বছরের এই শিশুকন্যা জিনঘটিত সমস্যার কারণে গত বেশকিছুদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। অবশেষ এই শিশুকন্যাটি গতকাল সন্ধেবেলা পুণের দিনানাথ মঙ্গেশকর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। 

ছোট্ট বৈদিকা একটি বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলো। তার প্ৰধান স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করতো না। ফলে হাত পা নাড়াতে অক্ষম ছিলো বৈদিকা। গত মাসে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ওঠা প্রায় ১৬ কোটি টাকার সাহায্যে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইনজেকশন ‘জোলজেনস্মা ইন্ট্রাভেনিউসলি’ প্রয়োগ করা হয় বৈদিকার ওপর। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মূলত এই অর্থ জোগাড় করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বহু মানুষ বৈদিকার সেরা ওঠার প্রার্থনা করছিলেন। স্বভবাতই বৈদিকার মৃত্যুর খবরে তারা মর্মাহত।

আরও পড়ুন
ব্যাঙের নতুন প্রজাতি খুঁজে পেলেন দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই গবেষক

 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী বৈদিকার বাবা সৌরভ শিন্দে জানান, “গতকাল সন্ধে পর্যন্ত বৈদিকা খেলার মেজাজেই ছিলো, কিন্তু হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বৈদিককে নিয়ে যাওয়া হয় পুনের দিননাথ মঙ্গেশকর হাসপাতলে। যেখানে তৎক্ষণাৎ ভেন্টিলেশনে স্থানান্তরিত করা হয় বৈদিকাকে। চিকিৎসকরা যথা সম্ভব চেষ্টা করা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হলো না।”

 

সৌরভ আরও জানিয়েছেন যে, “গত মাসে ইনজেকশন দেওয়ার পর কিছুটা শারীরিক উন্নতি হয় বৈদিকার। এর আগে বৈদিকা সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিল। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার পর হাত পা নাড়াচাড়া করতে পারতো সে। গত মাসে বৈদিকার জন্মদিন পালনও করেছি আমরা। ডাক্তার জানিয়েছিলেন আগামী তিন মাস একটু অতিরিক্ত যত্নে রাখার পর গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হবে অবস্থার।”

আরও পড়ুন
আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কতা প্রচারের অভিনব প্রচেষ্টা বিহারী যুবকের

 

ওই শিশুকন্যাটির বাবা আরও জানিয়েছেন যে, “বৈদিকার বয়স যখন চার মাস, তখন থেকেই সে মাথা সোজা করে রাখতে পারতো না। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করে জানান এই রোগের নাম এসএমতএ। এই রোগে কারণেই মাংসপেশী ধীরে ধীরে ক্ষয় পেতে থাকে। চিকিৎসকরা আমাদেরকে জানায় একমাত্র জোলগেনসমা ইন্ত্রাভেনিউসলি ইনজেকশন প্রয়োগ করলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। যার মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা এবং এটি একমাত্র আমেরিকায় পাওয়া যায়।”

বৈদিকার পরিবারের তরফে একটি বার্তায় জানানো হয়েছে যে, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ক্রাউড ফান্ডিং করে তোলা হয়। স্থানীয় সাংসদ অমল কলহে সরকারের কাছে আবেদন জানান আমেরিকা থেকে এই বিশেষ ভ্যাকসিন আনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। অভিনেতা জন আব্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় ডোনেশেনের আবেদন জানান। পৃথিবীর নানা প্রান্তের শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষ তাদের স্বার্থমতো আমদের পাশে থেকে আশার সঞ্চার করেছেন। কিন্তু হয়তো বৈদিকার কপালে অন্য পরিণতি লেখা ছিলো… ” 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!