১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১রবিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১রবিবার

অনলাইন গেমের শিকার হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিল ১৩ বছরের কিশোর

অনলাইন গেমগুলি ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে শিশুদের পক্ষে। আগে শুধুমাত্র আসক্তির সমস্যা ছিল। বর্তমানে এই সমস্যার পাশাপাশি অনলাইন গেম সংস্থাগুলি নানান টোপ দিয়ে শিশুদের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করে নিচ্ছে। সেই মোটা টাকা খরচ করে ফেলে মা-বাবার বকুনির সম্মুখীন হচ্ছে শিশুরা। অনেক ক্ষেত্রে এর ফলে দুর্ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইনে ‘ফ্রি ফায়ার’ গেমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ক্রমশই বড়ো আকার ধারণ করছে। এই অনলাইন গেম সংস্থাটির ছলচাতুরির কারণেই এবার প্রাণ গেল মধ্যপ্রদেশের এক ১৩ বছরের শিশুর।

 

বর্তমান সময়ে মানুষজন ক্রমশই নিজেকে একটি খোপের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলছে। তবে এই সমস্যা সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে। এখন ছোট থেকেই শিশুরা মাঠে গিয়ে খেলাধুলার বদলে ভার্চুয়ালি খেলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে তাদের মানসিক গঠনও অনেকটাই অন্যরকম হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন
ইজিয়ান সাগরের তলদেশে আস্ত জাদুঘর বানালো গ্রিস

মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলার নিভ অ্যাকাডেমির ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র কৃষ্ণ মোবাইল গেমে দীর্ঘদিন ধরে আশক্ত। শনিবার সকালে সে মোবাইল নিয়ে খেলতে খেলতে ফ্রী ফায়ার গেমের পরের ধাপে যাওয়ার জন্য এক লপ্তে ৪০ হাজার টাকা ঐ সংস্থাকে দিয়ে বসে! গোটা লেনদেন অনলাইনে হয়। সেই সময় বাড়িতে তার বড় দিদি একমাত্র ছিল। এই শিশুটির মা মধ্যপ্রদেশ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একজন নার্স, আর বাবা একটি প্যাথলজিক্যাল সেন্টার চালান।

 

ইউপিআই ব্যবহার করে ফ্রি ফায়ার গেম সংস্থাকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার নোটিফিকেশন তৎক্ষণাৎ শিশুটির মায়ের ফোনে গিয়ে হাজির হয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে ছেলেকে রীতিমত ভর্ৎসনা করেন, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এরপরই ওই শিশুটি ঘরের দরজা এঁটে দেয়। তার দিদি বারবার ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও সে বাইরে বেরিয়ে আসেনি। পরে বাধ্য হয়ে সে তার মা-বাবাকে ফোন করে ভাইয়ের ঘটনা জানায়। তারা দ্রুত বাড়ি ফিরে এসে দরজা ভেঙে দেখেন কৃষ্ণ সিলিং থেকে ঝুলছে!

আরও পড়ুন
সময়ের অতলে হারিয়ে যাওয়া দুই বাংলার মেয়েদের ব্রত অনুষ্ঠান

এই শিশুটি নিজের মাকে উদ্দেশ্য করে একটি সুইসাইড নোট লিখে রেখে গেছে। সেখানে জানিয়েছে ফ্রি ফায়ার গেমে ৪০ হাজার টাকা নষ্ট করার কারণে সে অত্যন্ত অনুতপ্ত। বারবার মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়েছে মানসিক অবসাদের কারণে সে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

যদিও একজন শিশুর এইভাবে আত্মহননের ঘটনাকে যথেষ্ট উদ্বেগজনক প্রবণতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরিষ্কার জানিয়েছেন অবিলম্বে যদি অভিভাবকরা এই বিষয়ে সচেতন না হয় তবে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এর পাশাপাশি সরকারকেও সক্রিয় হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশেষ করে এই অনলাইন গেমগুলি বন্ধ করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে বলছেন মনোবিদরা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!