১১ মে, ২০২১মঙ্গলবার

১১ মে, ২০২১মঙ্গলবার

দক্ষিণের যাবতীয় বাম মিথ ধুলোয় মিশে গেল কান্তি-সুজনের পরাজয়ের ফলে

একুশের ভোটযুদ্ধে বামেদের সংগঠন সেভাবে গোছানো ছিল না। বলা যেতে পারে নিচুতলায় তাদের সংগঠনের যাবতীয় অস্তিত্ব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই তারা বেশ কতগুলি সুনির্দিষ্ট স্লোগান এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ওপর ভর করে ভোট ময়দানে অবতীর্ণ হয়। এক্ষেত্রে তারা দলীয় প্রার্থীদের এলাকাভিত্তিক যে কাজগুলির উপর ভরসা রেখেছিল তার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। এই জেলার সুন্দরবন অঞ্চলের রায়দিঘি কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী কান্তি গাঙ্গুলি সম্বন্ধে পরিচিত মিথ ‘ঝড়ের আগে কান্তি পৌঁছে যায় রায়দিঘি’ ছিল অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে শ্রমজীবী ক্যান্টিনের বিষয়টিকে এবারের ভোট প্রচারে প্রধান হাতিয়ার করে তুলেছিল বামেরা। সেই শ্রমজীবী ক্যান্টিনের সফল রূপায়ণ ঘটেছে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। কিন্তু ভোটের রাজনীতির অঙ্ক জানিয়ে দিচ্ছে বাকি সমস্ত জায়গার মতো এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্রেও সম্পূর্ণভাবে ধরাশায়ী হয়েছে বামেরা।

 

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা বরাবর তৃণমূলের ঘাঁটি। তারা যখন বিরোধী আসনে ছিল তখনও এই জেলায় তাদের দাপুটে উপস্থিতি ছিল। ২০১৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ৩১ একটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৯ টিতেই জয়ী হয় তৃণমূল। শুধুমাত্র কুলতলী এবং যাদবপুর কেন্দ্রে জিতেছিল সিপিআইএম প্রার্থীরা। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেল জেলার ৩০ টি আসনে জয়ী হয়েছে জোড়া ফুল শিবির। শুধুমাত্র সংযুক্ত মোর্চার পক্ষ থেকে ভাঙরে আইএসএফ প্রার্থী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী তৃণমূল প্রার্থী রেজাউল করিমকে হারিয়ে জয়ী হন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত যাদবপুরের‌ও এবার পতন ঘটেছে।

আরও পড়ুন
এক গ্রন্থাগারিক প্রথম পৃথিবীর পরিধি পরিমাপ করেছিলেন

অথচ এই জেলাই ৩৪ বছরের বাম জামানায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নির্বাচিত করে এসেছে। এখানকার সাতগাছিয়া কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন জ্যোতি বসু নির্বাচিত হয়েছেন। আবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বরাবর জয়ী হয়ে এসেছেন যাদবপুর কেন্দ্র থেকে। এই যাদবপুরেই শ্রমজীবী ক্যান্টিন সহ নানা বিষয়কে হাতিয়ার করে সিপিআইএম সংগঠন যথেষ্ট মজবুত রাখার চেষ্টা করেছিল। তাদের কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল তিরিশ হাজারেরও বেশি ভোটে এখানে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী বিধানসভার বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। শুধু বামপন্থীদের নয়, তার এই পরাজয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও অন্যতম অবাক করা ঘটনা।

কান্তি গাঙ্গুলির পরাজয় অবশ্য দলমত নির্বিশেষে অনেকের কাছেই বড়ো ধাক্কা হিসেবে হাজির হয়েছে। বামফ্রন্ট আমলের এই প্রাক্তন মন্ত্রী আগে ভোটে হেরে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন নিজের এলাকায় পড়ে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে আসছেন। বুলবুল এর পর আম্ফান ঝড়ের সময়েও নিরলসভাবে কান্তি গাঙ্গুলিকে রায়দিঘির মানুষের জন্য কাজ করতে দেখা গিয়েছে। এবারের ভোট প্রচারের সময় এখানকার জয়ী প্রার্থী তৃণমূলের ডা. অলোক জলদাতার গলাতেও খুব একটা আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়নি। রাজ্য রাজনীতির কান্ডারীরা ধরে নিয়েছিলেন কান্তি গাঙ্গুলির জয় নিশ্চিত। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে তিনি আটত্রিশ হাজারের সামান্য কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন।

আরও পড়ুন
ভোটের লড়াইয়ে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল বামেদের ‘আশা’র তরুণ প্রজন্মের প্রার্থীরা

বামফ্রন্ট শিবিরের অনেকেই বলছেন কান্তি, সুজন হেরে যাওয়ার ফলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় বামপন্থীদের শেষ চিহ্নটুকুও আগামী দিনে থাকবে কিনা সন্দেহ। উল্লেখ্য এই জেলারই জয়নগর এবং কুলতলী দীর্ঘদিন ধরে আরেক বামপন্থী দল এসইউসিআই(সি) এর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০১৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় তারা খাতা খুলতে পারেনি। আর এবার সমগ্র বামফ্রন্ট খাতা খুলতে পারল না গোটা রাজ্যে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,820FansLike
20FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!