১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

ইঁদুরের উৎপাত আটকাতে গিয়ে এই দ্বীপটি পরিণত হয়েছে বিড়ালের রাজত্বে

গৃহপালিত বিভিন্ন প্রাণীকে আমরা বাড়িতে পালন করে থাকি। এরমধ্যে গরু, ঘোরার মতো প্রাণীগুলি অনেকটাই প্রয়োজনে লালন-পালন করা হয়। আবার কুকুর-বিড়ালের মতো প্রাণীগুলোকে কেউ কেউ নিজের আপন জন স্নেহে পালন করে থাকে। বর্তমানে কোনো কোনো বাড়িতে মানুষের সংখ্যার থেকে গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। তবে একটি এলাকার মানুষের থেকে গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা বেশি এরকম সাধারণত দেখা যায় না। কিন্তু এটির ব্যতিক্রমও আছে, যেখানে মানুষের থেকে গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।

জাপানে তাশিরোজিমা নামে একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ আছে।দ্বীপটির আয়তন মেরেকেটে দের বর্গকিলোমিটার। এই দ্বীপটিকে বিড়ালের রাজ্য নামে চিহ্নিত করা হয়। এখানে বর্তমানে ১০০ জনেরও কম মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু বিড়ালের সংখ্যা প্রায় ৬০০ এর বেশি। এই দ্বীপে প্রবেশ করলে আপনি চারিদিকে বিড়াল দেখতে পাবেন। যে স্বল্প সংখ্যক বাসিন্দা আছে তাদেরও বাড়ির সর্বত্র বিড়াল ঘুরে বেড়ায়।

আরও পড়ুন
পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো কামানকে ধ্বংস করেছিল নিজের দেশ 

আমাদের মধ্যে প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে এরকম একটি দ্বীপ বিড়ালের সাম্রাজ্যে পরিণত হল। তাহলে গোড়ার কথায় আসা যাক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের কথা। সেসময় এখানে বাসিন্দার সংখ্যা ছিল মোট হাজার জনেরও বেশি। এই অনন্য সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে বাসিন্দারা মূলত মাছ শিকার করে জীবনযাপন করত। অর্থাৎ বলা যায় এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা ছিল মৎস্যজীবী। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে মাছের কোনো অভাব ছিল না। এর পাশাপাশি এই দ্বীপে রেশমের পোষাক তৈরীর জন্য শুককীট চাষের প্রচলন ছিল। কিন্তু এই সময় ধেরে ইঁদুরের উৎপাত ঘটে। এই ইঁদুরের উৎপাতে শুককীটের উৎপাদন ব্যাহত হয়। তেমনি মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার জাল কেটেও দিচ্ছিল ইঁদুর।

আরও পড়ুন
কচ্ছপের ওপর অত্যাচার করার জন্য নাকি এই গ্রামের সবাই ‘খাটো’ হয়ে জন্মগ্রহণ করে 

ইঁদুরের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। তারা বেশকিছু বিড়াল নিয়ে এসে ছেড়ে দেন দ্বীপে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে মিশে গিয়েছিল তারা। কিছুদিনের মধ্যেই এখানকার মানুষ হাতেনাতে ফল পেতে থাকেন। ইঁদুরের উৎপাত অনেকটাই কমে যায়। এদিকে মার্জার কুলের সংখ্যা হুহু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় এই স্বস্তি হঠাৎ করে অস্বস্তি হয়ে দেখা দেয় বাসিন্দাদের কাছে। মৎস্যজীবীদের মাছ খেতে শুরু করে বিড়ালেরা।

মৎস্যজীবীদের আখড়ায় বিড়ালের হানা তার পাশাপাশি দ্বীপে আধুনিক পরিকাঠামোর অভাবের জন্য এখানকার বাসিন্দারা অন্য জায়গায় চলে যেতে শুরু করে। মূলত বয়স্ক মানুষেরা দ্বীপ ছেড়ে যাননি। সময়ের নিয়মে এই নিঃসঙ্গ বয়স্ক মানুষদের কাছে আপনজন হয়ে ওঠে বিড়ালরা। তারা বেশ ভালোভাবেই একাত্মবোধ করেন এই গৃহপালিত পশুগুলির সঙ্গে।

একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল জাপানিদের কাছে বিড়াল সবসময় সৌভাগ্যের প্রতীক। তারা মনে করে বাড়িতে বিড়াল লালন পালন করলে জীবনের সমৃদ্ধি ঘটবে। এই ধারনা আরো বৃদ্ধি পায় ২০১১ সালের ভূমিকম্পের ফলে জাপানে যে সুনামি ঘটে তাতে আশ্চর্যজনকভাবে এই দ্বীপটি রক্ষা পায়। সেই থেকেই এখানকার সাধারণ মানুষ মনে করতে শুরু করেন বিড়ালদের কল্যাণেই তারা বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। বর্তমানে এই দ্বীপে বিড়ালরা যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে পারে তাই এখানে কুকুরের অনুপ্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাপান সরকার। বর্তমানে এটি বিশ্বের দরবারে ‘ক্যাট আইল্যান্ড’ নামে সুপরিচিত। প্রচুর পর্যটক এই বিড়াল দেখতে প্রতিবছর এখানে ভিড় জমান।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!