১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

অসম্ভবকে সম্ভব করে করোনা আবহেই প্রথম এশীয় হিসেবে এভারেস্টকে হারিয়ে দিলেন এই দৃষ্টিহীন মানুষ

কথায় বলে অন্ধের কিবা দিন কিবা রাত। অর্থাৎ দৃষ্টিহীন মানুষের দিন রাতের কোনো ফারাকই নেই। কিন্তু যদি শোনা যায় একজন দৃষ্টিহীন মানুষ সমস্ত বাঁধা টপকে বিপদশঙ্কুল পথে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর এভারেস্ট জয় করেছেন, তাহলে সমস্ত প্রবাদ, সমস্ত প্রচলিত ধারণা মিথ্যে হয়ে যায়।

 

এমন কী আছে ওই বরফাচ্ছন্ন তুষার শৃঙ্গে যার টানে যুগ যুগ ধরে মানুষ ছুটে চলেছে এই শৃঙ্গ জয় করতে! কোন আকর্ষণে তারা ছুটে যান সমস্ত ভয়ঙ্কর প্রতিকূলতা আর প্রকৃতির সমস্ত বাধা সত্ত্বেও। যাদের দৃষ্টি আছে তাদের ক্ষেত্রে হয়ত বলা যেতে পারে অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের টানে তারা ছুটে যান, কিন্তু যারা দৃষ্টিহীন তাদের ক্ষেত্রে তো এই ধারণা খাটে না। এর উত্তর আজও অজানা। কিন্তু সম্প্রতি এমনই এক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন এক এশীয়।

আরও পড়ুন
একসময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী নগর বর্তমানে পরিণত হয়েছে একটি ধুঁকতে থাকা দারিদ্র শহরে!

অসম্ভবকে সম্ভব করে করোনা আবহেই প্রথম এশীয় হিসেবে এভারেস্টকে হারিয়ে দিলেন এই দৃষ্টিহীন মানুষ
পশ্চিম চিনের অদূরে মুজ্যাগ আতা শৃঙ্গে ঝ্যাং হং, ছবি: ঝ্যাং হংয়ের সৌজন্যে

ঝ্যাং হং নামের এক চিনের এক ৪৬ বছর বয়সী এশিয়ার প্রথম দৃষ্টিহীন ব্যক্তি হিসেবে জয় করলেন এভারেস্ট। নেপালের দিক থেকে মাউন্ট এভারেস্টে ওঠা ঝ্যাংই বিশ্বের তৃতীয় দৃষ্টিহীন মানুষ যিনি এভারেস্ট জয় করেছেন।  এত বাধা, এত বিপত্তি, বিপদশঙ্কুলতা এমনকী প্রাণ নাশেরও সম্ভবনা থাকে এভারেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে। যেখানে স্বাভাবিক সক্ষম মানুষরাও পদে পদে বিপদের মুখে পড়েন, অনেকে মারাও যান, সেখানে ঝ্যাংয়ের মতো একজন দৃষ্টিহীন মানুষ কীভাবেই বা সম্ভব করলেন এমন অসম্ভবকে। অসীম সাহসী ঝ্যাং কিন্তু এমন প্রতিবন্ধকতাগুলিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেন। অসীম সাহসী এবং দৃঢ় মানসিকতার ঝ্যাং অন্য ধাতুতে গড়া।

 

এভারেস্টের বিপদশঙ্কুলতা আর নিজের প্রতিবন্ধকতাকে গুরুত্ব না দিয়ে ঝ্যাংয়ের বক্তব্য, “ এটা কোনো বিষয়ই নয় যে আপনি স্বাভাবিক নাকি পঙ্গু। এমনকী আপনি দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন নাকি আপনার হাত বা পা নেই, এটাও কোনো আলাদা বিষয় নয়। যে কথাটি আসল তা হল আপনার মানসিক শক্তি। আপনার মানসিক শক্তি বা মনোবল যদি দৃঢ় হয়, তাহলে আপনার লক্ষ্যে আপনি অনায়াসেই পৌঁছে যেতে পারেন”।

আরও পড়ুন
কলকাতার জনারণ্যে লোকচক্ষুর আড়ালেই অদ্ভুতভাবে পালিত হয় চিনাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

অসম্ভবকে সম্ভব করে করোনা আবহেই প্রথম এশীয় হিসেবে এভারেস্টকে হারিয়ে দিলেন এই দৃষ্টিহীন মানুষ
এভারেস্টের শৃঙ্গের দিকে এগোচ্ছেন ঝ্যাং, ছবি সৌজন্যে ঝ্যাং হং

ঝ্যাং হং গত মাস অর্থাৎ মে-র ২১ তারিখ নাগাদ এভারেস্টে ওঠেন। ঝ্যাংয়ের জন্ম চিনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের চংকুয়াং শহরে। তিনি গ্লুকোমায় অন্ধ হয়ে যান মাত্র ২১ বছর বয়সেই। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হল সেই সময় ভেঙে না পড়েও তিনি কী করে দৃষ্টিহীন হয়েও দেখলেন এমন এক অসম্ভব স্বপ্ন। এখানেই নিজের অনুপ্রেরণার কথা বলেন ঝ্যাং। প্রথম কোনো দৃষ্টিহীন মানুষ ২০০১ সালে এরিক ওয়েহেনমায়ের নামে এক এই আমেরিকান পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেন। এরিককে দেখেই অনুপ্রাণিত হন ঝ্যাং। তারপরই নিজের বন্ধু এবং মাউন্টেনিয়ারিং গাইড কিয়াং জির কাছ থেকে পর্বতারোহনের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন ঝ্যাং।

আরও পড়ুন
কলকাতার একটি অঞ্চলের নাম এই মাছের নামে, কালের ফেরে সেই মাছেরাই হারিয়েছে অস্তিত্ব

অসম্ভবকে সম্ভব করে করোনা আবহেই প্রথম এশীয় হিসেবে এভারেস্টকে হারিয়ে দিলেন এই দৃষ্টিহীন মানুষ
লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছেন ঝ্যাং, ছবি সৌজন্যে:ঝ্যাং হং

বিশ্বব্যাপী লকডাউনের পর এ বছরের এপ্রিল মাসে বিদেশীদের জন্য নেপাল মাউন্ট এভারেস্টে খুলে দেয় বিদেশীদের জন্য। সময় নষ্ট করেননি ঝ্যাং। সিদ্ধান্ত নেন এটাই সঠিক মরশুম বেরিয়ে পড়ার। কেমন ছিল ঝ্যাংয়ের এভারেস্ট জয় করার অভিজ্ঞতা? ঝ্যাংয়ের কথায় তিনি খুবই ভয় পাচ্ছিলেন এভারেস্টে ওঠার সময়। পড়েও যাচ্ছিলেন মাঝেমধ্যে। কিন্তু বারবার নিজেকে তিনি বোঝাতে থাকেন যে তিনি সমস্ত প্রতিকূলতাকে পার করে এগিয়ে যেতে পারেন। সেই সময় তার বারবার মনে পড়েছে এরিকের কথা। এরিক পারলে তিনি কেনও পারবেন না। এরিকই প্রথম এভারেস্ট অভিযানের ইতিহাসে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে ইচ্ছে থাকলে দৃষ্টিহীন হয়েও পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গও জয় করা যায়।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!