১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

আবিষ্কৃত পুরুষ পুরোহিত মমির পেটে পাওয়া গেল সাত মাসের শিশু!

সভ্যতার বিকাশের পর থেকেই মানুষের মন হয়ে উঠেছে অনুসন্ধিৎসু। অপার জিজ্ঞাসা নিয়ে বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ইতিহাসের নানা পর্যায় একের পর এক অবিষ্কার করে চলেছে তারা। আর এই আবিষ্কার যত হচ্ছে ততই বাড়ছে বিস্ময়ের পালা। এক একটি আবিষ্কার এমনভাবে চমকে দিচ্ছে মানুষকে যেনো তা মানব সভ্যতার নয় বরং এই পৃথিবীর বাইরের কোনো মানুষের কীর্তি।

চিরকাল মিশর এবং তার মমি সংস্কৃতি মানুষকে অবাক করে চলেছে। যুগ যুগ ধরে একের পর এক মমি আবিষ্কার করে চলেছেন ঐতিহাসিক আর গবেষকরা। এবং প্রতিবারই তারা মিশরের উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে শুরু করে, সংস্কৃতি, তাদের বিজ্ঞান এবং টেকনোলজি নিয়ে মাথা চুলকে মরেছেন, যে এগুলো কীভাবে ওই প্রাচীন সময়ে সম্ভব ছিল। সম্প্রতিই এমন একটি মমি ধন্ধে ফেলে দিয়েছে গবেষকদের।

আবিষ্কৃত পুরুষ পুরোহিত মমির পেটে পাওয়া গেল সাত মাসের শিশু!
আবিষ্কৃত হওয়া মমিটি কম্পিউটার এবং এক্স-রে পরীক্ষা করা হচ্ছে মমিটির

কিছুদিন আগেই পোলিশ মমি গবেষকরা একটি প্রাচীন মমি পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন যে সেটি সম্ভবত কোনো পুরুষ পুরোহিতের ছিল। কিন্তু হঠাত করেই একটি নতুন দিক তাদের কাছে খুলে যাওয়ার ফলে চমকে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ওই মমিটির এক্স-রে এবং কম্পিউটার পরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন এটি মিশরের কোনো পুরুষ পুরোহিতের নয় বরং সাত মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মমি এটি।এবং এই আবিষ্কারের ফলে গবেষকরা দাবি করেছেন যে এই মমিটি বিশ্বের প্রথম কোনও অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মমি।

ওই মমিটি ১৮২৬ সালে আবিষ্কৃত হওয়ার পর ওয়ারশ (Warsaw) এ পৌঁছয়। মমিটির কফিনে এক পুরোহিতের নাম খোদাই করা ছিল। এই মমিটির গবেষক দলে থাকা নৃতত্ত্ববিদ এবং প্রত্নত্তত্ববিদ মাজেনা ওজারেক সিলকা (Marzena Ozarek-Szilke) জানিয়েছেন যে, “এই মমিটি পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রথমে দেখি যে সেটির কোনো পুরুষাঙ্গ নেই! আবার মমিটির স্তন আছে এবং লম্বা চুলও রয়েছে। তারপরই আমরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হই যে এটি একটি মহিলার মমি। এবং তিনি মৃত্যুর সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন! গবেষকদের অনুমান, মিশরীয় ওই নারীটির বয়স ছিল ২০-৩০ বছর। সেই সঙ্গে তারা মমিটির গর্ভে থাকা শিশুটির করোটি পরীক্ষা করে মনে করেছেন এটির বয়স ২৬-২৮ সপ্তাহের মধ্যে।

আবিষ্কৃত পুরুষ পুরোহিত মমির পেটে পাওয়া গেল সাত মাসের শিশু!
পরীক্ষার পর পেটে পাওয়া গেলো সাত মাসের ভ্রুণ

এই মমিটি নিয়ে জার্নাল অফ আর্কিওলজিক্যাল সাইন্স পত্রিকায় যে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে এই মমিটি থেকে বোঝা যাবে যে সেই সময় প্রাচীন মিশরের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কী ধরণের চিকিৎসা করা হত। সেই সঙ্গে গবেষকরা দাবি করেছেন যে এর আগে কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীর মমি আবিষ্কৃত হয়নি। সেদিক দিয়েও এই মমিটি অনন্য, এর ফলে মমি গবেষণার জগতে যথেষ্ট আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!