৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

খোদ কলকাতার কসবা এলাকায় ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্প, মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্পের খোঁজ পাওয়া গেল খাস কলকাতা থেকে। এই ঘটনায় দেবাঞ্জন দেব নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইনি আবার নিজেকে আইএএস অফিসার হিসেবে সর্বত্র পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন। জানা গিয়েছে যাদবপুরের সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগের পর এই ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্পের কথা সর্বসমক্ষে উঠে আসে। এরপরই কলকাতা পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

 

অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী সম্প্রতি কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হোসেনপুর এলাকায় একটি স্থানীয় ক্যাম্প থেকে করোনার টিকা নেন। এই জায়গাটি রাজডাঙা অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। কিন্তু টিকা নেওয়ার পর নিয়মমতো সাংসদের মোবাইলে কোন‌ও এসএমএস আসেনি কো-উইন পোর্টাল থেকে। এরপরই অভিনেত্রীর সন্দেহ হয়। তৎক্ষণাৎ তিনি ওই ক্যাম্পটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।

আরও পড়ুন
মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ নীতি মেনে ভিন্ন সংস্থার টিকা দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে নিলেন ইতালি ও জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান

মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। দেবাঞ্জন দেবকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যায় হোসেনপুর অঞ্চলের ক্যাম্প থেকে প্রায় ২০০ জন টিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোথা থেকে এই টিকা পেয়েছেন তা এখন‌ও জানতে পারা সম্ভব হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র সরাসরি রাজ্যের কাছে করোনা টিকা পাঠায়। এর বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল সরাসরি টিকা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি থেকে টিকা কিনতে পারে। তবে খোলাবাজারে এখনও পর্যন্ত টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। রাজ্য নিয়ম মেনে কিছু কিছু সময় বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাতে প্রয়োজনমতো টিকা তুলে দিচ্ছে। তবে সেখানেও সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে কো-উইন পোর্টালের মাধ্যমে টিকাকরণ সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়ম-কানুন পালন করছে।

 

এক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভা বা রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর কারোর থেকেই দেবাঞ্জন দেবের কাছে টিকা যায়নি বলে জানা গেছে। যদিও কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর পৃথক পৃথকভাবে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিম পরিষ্কার জানিয়েছেন এই ঘটনায় পুরসভার কোন‌ও আধিকারিক যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
বৃদ্ধ রাজার আবদার মানতে গিয়ে প্রতিপক্ষের দুই চোখ উপড়ে নিয়েছিল অনুগতরা

জানা গিয়েছে কিছুদিন আগে সোনারপুর অঞ্চলেও টিকাকরন প্রক্রিয়া চালায় দেবাঞ্জন দেব। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে সোনারপুর এবং কসবার ক্যাম্প থেকে তিনি যে টিকা দিয়েছেন তা ভুয়ো! অর্থাৎ দেবাঞ্জনের ক্যাম্প থেকে যারা টিকা নিয়েছে তারা জাল টিকা পেয়ে থাকতে পারে। এর ফলে এই দুই জায়গা থেকে টিকা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই মুহূর্তে প্রবল আতঙ্কে ভুগছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর ২০০৭ সালে দেবাঞ্জনের বাবা মনোরঞ্জন দেব রাজডাঙা এলাকায় জায়গা কিনে নতুন বাড়ি তৈরি করেন। চিনি রাজ্য আবগারি দপ্তরের যুগ্ম কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন। তবে বেশ কিছু বছর আগে তিনি অবসর নেন। কিন্তু এখনও তাদের বাড়ির বাইরের নেমপ্লেটে তাকে আইএএস আধিকারিক হিসেবে উল্লেখ করা আছে। এই দেব পরিবার বরাবরই রহস্যজনক আচরণ করে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর ছেলে দেবাঞ্জন দেব সম্বন্ধে মনোরঞ্জনবাবু বরাবর বলে আসেন সে একজন আইএএস আধিকারিক। এমনকি বর্তমানে দেবাঞ্জন কমিশনার পদে কর্মরত বলেও তিনি প্রতিবেশীদের কাছে দাবি করেন।

আরও পড়ুন
ভারতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স পকেটে রাখলেই বিদেশেও আপনি গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে তুলে নিতে পারবেন!

এদিকে জানা গিয়েছে আমলা হওয়াতো দূরের কথা কোনও সরকারি চাকরিই করেন না দেবাঞ্জন। এদিকে এই ভুয়ো পরিচয় নিয়ে ওই পরিবার নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িতে কখনও লাল কখনও নীল রঙের হুটার লাগিয়ে চলাফেরা করত বলে খবর। তারা স্থানীয় মানুষের চোখে নিজেদের কেউকেটা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়। এর ফলে স্থানীয় লোকজন তাদের একটু এড়িয়েই চলত। সন্দেহ হলেও অজানা আশঙ্কায় তারা কখনও গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেনি। পুলিশের অনুমান স্থানীয় মানুষের মনের ভয়কে কাজে লাগিয়ে এই ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্প করার সাহস দেখিয়েছেন দেবাঞ্জন দেব। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার নাকের ডগায় বসে কি করে এরকম একটি ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্প চালানো সম্ভব হল?

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!