৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

তেলেগু রাষ্ট্রীয় সমিতিতে বড়োসড়ো ভাঙন ধরালো বিজেপি

বিজেপি যে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এবার তেলেঙ্গানার শাসকদল টিআরএসের ঘর ভেঙে সে রাজ্যে জমি তৈরির চেষ্টা করছে তারা। অথচ একদিন আগেই মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। যাকে তৃণমূল থেকে ভাঙিয়ে এনে বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের অভিমত বিজেপি বুঝে গিয়েছে নিজেদের শক্তিতে সর্বোত্র ক্ষমতা দখল করা সম্ভব হবে না। তাই অন্যান্য দলের নেতাদের নিয়ে ক্ষমতা দখল করা তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

 

তেলেঙ্গানার প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এত্তালা রাজেন্দর শনিবার সে রাজ্যের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আগামী সোমবার বিজেপিতে যোগ দেবেন। উল্লেখ্য তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা টিআরএস প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও এর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে গত ৪ জুন দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন এই বিক্ষুব্ধ নেতা। তারপরেই জল্পনা প্রবল হয়েছিল যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে শনিবার জানিয়ে দিলেন তিনি বিজেপিতেই যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন
দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর বাগদার বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের গলায়

বিজেপিতে যাওয়ার আগে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এত্তালা রাজেন্দর অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও দল এবং সরকারের পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন। তিনি কেবলমাত্র ঘনিষ্ঠদের সমস্ত কিছু দিয়ে দিচ্ছেন। তার বক্তব্য, “দীর্ঘ সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে তেলেঙ্গানাকে পৃথক রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার সময় আমরা ঠিক করেছিলাম এখানে দুর্নীতির কোনও জায়গা থাকবে না। কিন্তু দেখা গেল কে চন্দ্রশেখর রাও এর আমলে তেলেঙ্গানা দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ক্রমশ পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন রাজ্যে। একটা পরিবার ছাড়া তেলেঙ্গানায় আর কারোর কোন‌ও কিছু উন্নতি হচ্ছে না।” এত্তালা রাজেন্দর তেলেঙ্গানার হাজুরাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ফলে আগামী দিনে সেখানে উপনির্বাচন হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিধানসভা উপনির্বাচনে হাজুরাবাদের মানুষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও এর মুখোমুখি লড়াই হবে।”

 

উল্লেখ্য কে চন্দ্রশেখর রাও নিজে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার পাশাপাশি ছেলে নারা লোকেশকে মন্ত্রিসভার সদস্য করেছেন। মেয়েকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে কে চন্দ্রশেখর রাও এর বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ বেশ পুরনো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিআরএস এবং কংগ্রেস ছেড়ে বেশ কিছু নেতাকর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। সে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ক্রমশই বিজেপি উঠে আসছে। সাংগঠনিক ব্যর্থতায় কংগ্রেস নিজেদের জমি হারাচ্ছে।

আরও পড়ুন
২৬ জুন দেশজুড়ে ‘ক্ষেত বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির ডাক আন্দোলনরত কৃষকদের

যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের স্পষ্ট অভিমত অন্য দল ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতা দখল করা যে যায় না সেটা এবারের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপিকে ভালোমতো বুঝিয়ে দিয়েছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি কেরলেও অন্য দল থেকে আসা নেতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে ভালো ফলের স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। কিন্তু এযাবতকালের মধ্যে সে রাজ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে তারা। কেরল বিধানসভা থেকে সম্পূর্ণ মুছে গিয়েছে গেরুয়া শিবির।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!