৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

৮০বছর বয়সে চলে গেলেন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পথপ্রদর্শক

জেন মাইকেল ডাবনার্য়ডকে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা জগতের পথপ্রদর্শক বলে মনে করা হয়। এই ফরাসি সার্জেন প্রথম ১৯৯৮ সালে নিউজিল্যান্ডের এক ব্যক্তির হাত প্রতিস্থাপন করেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটাই প্রথম সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা। ফ্রান্সের লিয়ঁ শহরে বাসিন্দা এই সার্জেনের হাত ধরেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে আসে। এর ফলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে পরবর্তীকালে। নিউজিল্যান্ডের ওই ব্যক্তির হাত প্রতিস্থাপন করার জন্য টানা ১৩ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা তাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তোলে।

 

এর দু’বছর পর তিনি ফ্রান্সের এক ব্যক্তির দুটো হাত একসঙ্গে প্রতিস্থাপন করেন। ওই ব্যক্তি একটি রকেট ধরেছিলেন, যেটি সেই সময়ে ফেটে যায়। তাতেই তার দুটি হাত পুড়ে গিয়েছিল। এক মৃত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতিতে তার দুটি হাত ওই ব্যক্তির হাতে প্রতিস্থাপিত করা হয়। ২০০৫ সালে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটান। ইসাবেলা ডিনয়রে নামে এক ফরাসি মহিলার মুখ নিজের পোষা কুকুরের আক্রমণে পুরোপুরি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। সার্জেন জেন মাইকেল ডাবনার্য়ড ওই মহিলার মুখ প্রতিস্থাপন করেন। এক মৃত মহিলার মুখ থেকে টিস্যু নিয়ে এই গোটা প্রতিস্থাপনের কাজটি করা হয়। এর আগে কেউ ভাবতে পারেনি কোনদিন কারোর মুখ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। এই ঘটনাটি চিকিৎসা দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন
করোনায় হারিয়েছিলেন দিনমজুরের কাজ, এখন ইউটিউবার হয়ে ছয় মাসে আয় পাঁচ লাখ এই ভারতীয় যুবকের!

এই মুখ প্রতিস্থাপনের তিন মাস পর ওই ফরাসি মহিলাকে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসা হয়। তার মুখে কিছু খামতি থাকলেও সার্বিকভাবে একটা মোটামুটি ঠিকঠাক মুখের গঠন তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। যদিও এই নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। কিছু বিশেষজ্ঞ দাবি করেন ডাবনার্য়ডের মুখ প্রতিস্থাপন করার ঘটনাটি পুরোপুরি সাজানো ছিল। তিনি প্রচার পাওয়ার জন্য মিথ্যে ঘটনা সর্বত্র রটিয়ে বেরিয়েছিল।

 

তবে মুখ প্রতিস্থাপন করার পর ১১ বছর বেঁচে ছিলেন ওই ফরাসি মহিলা। তার শেষ জীবনের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অভিযোগ করেন মুখ প্রতিস্থাপনের কারণেই ওই ফরাসি মহিলার মৃত্যু হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন শেষ পর্যন্ত প্রতিস্থাপিত মুখ ওই ফরাসি মহিলার শরীর প্রত্যাখ্যান করেছিল। তার ফলে তার শরীরে একাধিক জায়গায় ক্যান্সার হয়, এমনকি তিনি ঠোঁট দুটো পর্যন্ত নাড়তে পারতেন না। তাই খাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে অসম্ভব কষ্ট সহ্য করতে হত। এই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি আলোড়ন ফেলে দেওয়া চিকিৎসক জেন মাইকেল ডাবনার্য়ড’কে কাঠগোড়ায় তোলেন।

আরও পড়ুন
জলের তলার আস্ত শহর! দুবাইয়ে খুলে গেল পৃথিবীর গভীরতম সুইমিং পুল

অবশ্য এই দুনিয়ার নিয়মই হল যে সবচেয়ে কৃতিত্বের ছাপ রাখবে তাকেই সবচেয়ে বেশি সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে! তাই এই সমস্ত সমালোচনার মুখে পড়েও জেন মাইকেল ডাবনার্য়ডের খুব কিছু যায় আসেনি। তিনি বহাল তবিয়তেই এতদিন নিজের কাজ করে গিয়েছেন। তবে সোমবার সকালে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮০ বছর বয়সে এই প্রবাদ প্রতীম চিকিৎসকের মৃত্যু হয়।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!