১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

সু-কি’কে আরও কোণঠাসা করতে মায়ানমারের জুন্টা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনলো

আরও বিপাকে পড়লেন মায়ানমারের জননেত্রী আং-সাং-সু-কি। এবার তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনল সে দেশের সামরিক জুন্টা সরকার। এই অভিযোগে দ্রুত সু-কি এর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে খবর। এমনিতেই এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সে দেশের সামরিক বাহিনীর রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের ঘটনার পর থেকেই সু-কি সেনাবাহিনীর কব্জায় আছেন।

 

সু-কি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার জন্য ইয়াঙ্গনের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যবহার করেছে সে দেশের জুন্টা সরকার। অভিযোগ আনা হয়েছে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইয়াঙ্গনের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার অর্থ এবং ১১ কেজি সোনা নিয়েছেন। সে দেশের জুন্টা সরকারের দাবি সর্বদা নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ঘুষ নিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে।

আরও পড়ুন
দেশে দৈনিক সংক্রমণ এক লাখের নিচে থাকলেও রেকর্ড তৈরি করে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের মৃত্যু

মায়ানমারের জুন্টা নিয়ন্ত্রিত দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের আনা অভিযোগ অবশ্য ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন সু-কি’র আইনজীবী খিন মাউনঙ জো। উল্লেখ্য দুর্নীতির অভিযোগে সু-কি’কে প্যাঁচে ফেলতে সে দেশের জুন্টা সরকারের প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। কারণ এই অভিযোগের সু-কি’কে অভিযুক্ত করতে পারলে তার রাজনৈতিক জীবন পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। সে দেশের আইন অনুযায়ী সু-কি আর কখনও সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে মায়ানমারের এই জননেত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিশ্বাস করছে না সে দেশের সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি সামরিক জুন্টা সরকার নিজেদের পথের কাঁটা সরাতে সবরকম ভাবে সু-কি’কে অপদস্থ করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

 

উল্লেখ্য আগামী ১৫ জুন থেকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে সু-কি’র বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করবে সে দেশের আদালত। ইতিমধ্যেই মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সে দেশের সাধারণ মানুষ সরব হয়ে উঠেছে। ফলে তাদের সেনাবাহিনীর প্রবল অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়। মায়ানমার সেনা ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ৮৫০ জন প্রতিবাদকারীকে হত্যা করেছে।

আরও পড়ুন
বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি, ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

উল্লেখ্য সু-কি এবং তার দল এনএলডিকে কোণঠাসা করতে সে দেশের সামরিক শাসকরা গোড়া থেকেই তৎপর। ইতিমধ্যেই নব নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার গতবছরের সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে সু-কি’র দল এনএলডিকে ভেঙে দিয়েছে। এবার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারলে তিনি আর কখনও নির্বাচনে লড়তে পারবেন না তবে অতীতে যেভাবে সু-কি আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছেন বর্তমানে তাতে বেশ কিছুটা যেন ভাঁটার টান। এর পিছনে রোহিঙ্গাদের প্রতি তার মনোভাব মূল কারণ বলে দাবি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সেনা যখন অত্যাচার করছিল সেই সময় সু-কি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। বরং তিনি মায়ানমার সেনাকে সমর্থন করেন। এর ফলে বিশ্বের দরবারে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!