১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

দুর্নীতির অভিযোগে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ইস্তফার দাবিতে সরব বিরোধীরা

র‌ওয়ালপিন্ডি রিং রোড প্রজেক্টকে ঘিরে উত্তাল পাকিস্তানের রাজনীতি। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ইস্তফা দাবি করল দুই প্রধান বিরোধীদল। পিএমএল(এন) এবং পিপিপি’র দাবি এই সড়ক প্রকল্পে যে ব্যাপক দুর্নীতি ঘটেছে তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী উসমান বাজদারের ইস্তফাও চাওয়া হয়েছে এই দুই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে।

গত সোমবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি রিং রোড প্রকল্পকে ঘিরে প্রথম দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে উঠে আসে। সে দেশের আর্থিক দুর্নীতি দমন বিষয়ক সংস্থার প্রধান জাভেদ ইকবাল এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপরই পাকিস্তানের শাসক দল তেহেরিক-ই-ইনসাফের একের পর এক শীর্ষস্থানীয় নেতার নাম এই দুর্নীতির ঘটনায় উঠে এসেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মন্ত্রিসভার বেশ কিছু সদস্য ও তার পরামর্শদাতারাও এই প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে ব্যাপক চাপে পড়ে গিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। বাধ্য হয়ে তিনি অবশেষে এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সে দেশের বিরোধী দলগুলি এই তদন্তের নির্দেশকে ‘আই ওয়াশ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি তুলেছে।

আরও পড়ুন
তাউটের তান্ডবে লন্ডভন্ড গুজরাট, ১ হাজার কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা কেন্দ্রের

পাকিস্তান মুসলিম লিগ(নওয়াজ) এর নেতা তথা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খোকন আব্বাসী এই প্রসঙ্গে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজে এই দুর্নীতির ঘটনায় যুক্ত। তাকে গোটা মন্ত্রিসভা সমেত ইস্তফা দিতে হবে।” পাকিস্তানের এই শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতার দাবি প্রধানমন্ত্রীর আবাস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আবাসের প্রত্যেকে শুধু কিভাবে আরও অর্থ কমাবে সেই চিন্তায় ডুবে থাকে।”

ইমরান খান প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নেতা শাহবাজ শরীফকে দুর্নীতির অভিযোগে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। অথচ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও ঘটনা প্রমাণ হয়নি। কিন্তু রাওয়ালপিন্ডি রিং রোড প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনাই প্রমাণ করে দিচ্ছে ইমরান খান সরকার দ্বিচারি মনোভাব নিয়ে দেশ শাসন করছে।”

আরও পড়ুন
মিললো না জামিন, জেল হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে সুব্রত-ফিরহাদ-মদন-শোভন’কে

পাকিস্তানের অপর বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির পক্ষ থেকেও দাবি তোলা হয়েছে অবিলম্বে ইমরান খান সরকারকে দুর্নীতির দায় স্বীকার করে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী নিজে এই দুর্নীতির ঘটনায় জড়িত। সব মিলিয়ে কয়েক মাস পরিস্থিতি একটু থিতিয়ে থাকার পর আবার ইমরান খানের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়ে উঠল সে দেশের দুই প্রধান বিরোধী দল। এই দুই দল বুঝিয়ে দিয়েছে তারা দুর্নীতির দাবিতে সহজে পিছু হটবে না।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!