১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

রবার্ট অ্যালান টমের চিত্রমালা: ওষুধ আর চিকিৎসার যুগলবন্দি ইতিহাস

কিছু বিষয় থেকেও যায় মনে, বহু কিছু হারায়ও যেমন মনের বয়েস বাড়লে। মনে থাকা আর না-থাকা সকলের ক্ষেত্রে নিশ্চয় একরকম নয়। বা, একটু ঘুরিয়ে বললে, মনে রাখার ক্ষমতা সবার এক রকমের নয়। একজন যা মনে রাখতে পারে, আরেক জন তা পারে না। একজনের কাছে যা গুরুত্ব পায়, অন্যজনের কাছে তা পায় না। অথচ একই জিনিস হয়তো অনেকেই দেখেছে। তবু লোকভেদে স্মৃতির তফাত হয়ে যায় কত।   

 

এই যেমন ডাক্তারখানায় গেলে কখনো, দু-একটা ছবি এমন দেখা যেত, সচরাচর যা অন্য কোথাও মিলত না। চিকিৎসার সঙ্গেই ছিল তার সম্পর্ক। শিরা-উপশিরাকীর্ণ মানবদেহের ছবি বা হাড়-পেশিসমেত হাত-পায়ের ছবি নয়। সে তো স্কুলেই দেখা যেত, বায়োলজির ল্যাবে কি কোনো ক্লাসরুমে। কিন্তু যে-ছবির কথা বলতে চাইছি, তা চিকিৎসকের পেশার সঙ্গে জড়িয়ে ওই জগতেরই শিল্প হয়ে ছিল সব। ডাক্তারবাড়ি বা ফারমেসিতে না গেলে সেরকম ছবির দেখা মিলত না। কবেকার দেখা! আবছা হয়েও কিন্তু মনে আছে এখনও। কী অদ্ভুত!

আরও পড়ুন
অসম্ভবকে সম্ভব করে করোনা আবহেই প্রথম এশীয় হিসেবে এভারেস্টকে হারিয়ে দিলেন এই দৃষ্টিহীন মানুষ

রবার্ট অ্যালান টমের চিত্রমালা: ওষুধ আর চিকিৎসার যুগলবন্দি ইতিহাস
চিকিৎসাজগতের আদিপিতা হিপোক্রেটিস (আনু. ৪৬০ খ্রি.পূ.), তাঁর নামেই আজও শপথ নেন চিকিৎসকরা

সেই ছবির লোকজন কেউই এদেশীয় নয়, এমনকী একালেরও নয়। আঠারো-উনিশ শতকের ইংরেজ কি ফরাসি, বা জার্মান হয়তো। লম্বা নলাকৃতি স্টেথোস্কোপের এক প্রান্ত কোনো শিশুর পিঠে রেখে চিকিৎসক আরেক প্রান্তে নিজের কান দিয়ে শুনছেন তার শ্বাসের শব্দ, কি কোনো শিশুকে টিকা দিচ্ছেন, এই জাতীয় ছবি। কোনোটা আবার সুদূর অতীতের, গ্রিক কি রোমান এক বৃদ্ধ চিকিৎসক একটি শিশুকে পরীক্ষা করছেন তার মায়ের উপস্থিতিতে। তাদের কোনো পরিচয়ই সেদিন না জানার ফলে বহুবছর শুধু ছবিরই মানুষ হয়ে থেকে গেছে তারা।  

 

যাদের শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য কেটেছে গত শতকের ছয়-সাত-আটের দশক মিলিয়ে, কলকাতা হোক বা মফস্‌সলের শহরাঞ্চলে, আশা করা যায় তাঁরা দেখে থাকবেন। অনেক চিকিৎসকেরই রোগী দেখার ঘরে, বা ডাক্তারখানাতেও বাঁধানো থাকত সেরকম ছবি। কী জীবন্ত ছিল সেই ছবির মানুষজন! চোখ যেত সেদিকে বার বার, চিকিৎসকের ডাকের অপেক্ষায় থেকে, কল্পলোকে হত চলাফেরা। অনেকদিনই চোখের বাইরে চলে গেছে সেসব। দরদালান ক্রমশ সরে যাওয়ার মতো। গৃহচিকিৎসকের আসাও ক্রমে বন্ধ হওয়ার মতোই।

আরও পড়ুন
একসময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী নগর বর্তমানে পরিণত হয়েছে একটি ধুঁকতে থাকা দারিদ্র শহরে!

রবার্ট অ্যালান টমের চিত্রমালা: ওষুধ আর চিকিৎসার যুগলবন্দি ইতিহাস
আবিসেন্না (আনু. ৯৮০-১০৩৭ খ্রি.), ‘পারস্যের গালেন’ বলা হত তাঁকে

ডাক্তারখানা বলতে একফালি কুঠুরি এখন, ডাকনাম ‘চেম্বার’। সাধ্যমতো সুচারু পর্দা, জায়গা থাকলে ঘরের কোণে জীবন্ত উদ্ভিদের সবুজ ছোঁয়া একটু। ফাঁকা দেয়ালে একটি ক্যালেন্ডার। ছবিছাড়া, মাস তারিখের উল্লেখ কেবল। ওষুধ বা অন্য কোনো কোম্পানির সূত্রে। কোনো চিকিৎসক মনীষীর ছবিও সেখানে বিরল। আগে থাকত। এমনকী  মেডিক্যাল কলেজের সতীর্থ বা সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে চিকিৎসকের ফোটোগ্রাফও। সে আহ্লাদও নেই আর।

 

নাম না-জানা শিল্পীর সেই ছবিগুলো চোখের আড়ালে থাকতে থাকতে স্মৃতিরও অতলে চলে গিয়েছিল কোন ফাঁকে। কিন্তু অন্য এক বিষয়ের প্রয়োজনে সন্ধান করতে গিয়ে তাদেরই দু-একটি বহুকালের উজান স্রোতে ভেসে এল। বড়ো আকস্মিক সে আবির্ভাব! বিস্ময়ের, তাই আনন্দেরও। সবই অন্তর্জালের কল্যাণে। ক্রমশ পাওয়া গেল না-দেখা আরও অনেকগুলো। অসামান্য সেই সমাবেশ। অবলোকনই প্রশ্নাতুর করে তোলে দর্শককে। ক্রমে খোলসা হয় শিল্পীর নাম-ধাম, ছবির জন্মকাল, মাধ্যম, আনুষঙ্গিক আরও কিছু। সেইসঙ্গে একটা ভুল ধারণাও ভাঙে। সেগুলো যে উনিশ শতকীয় বিলিতি ফসল নয়, ক্রমে তা মালুম হল।

আরও পড়ুন
কলকাতার জনারণ্যে লোকচক্ষুর আড়ালেই অদ্ভুতভাবে পালিত হয় চিনাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

রবার্ট অ্যালান টমের চিত্রমালা: ওষুধ আর চিকিৎসার যুগলবন্দি ইতিহাস
স্টেথোস্কোপের আবিষ্কর্তা ফরাসি চিকিৎসক ও সংগীতকার রেনে লায়েনেক (১৭৮১-১৮২৬) নিজের বাঁশি দিয়ে রোগীর শ্বাসধ্বনি শুনছেন

আর বহুকাল ধরে পরিচিতির অভাবে যে অন্ধকার গাঢ় হয়ে ছিল মনের ভেতর, সেখানেও আলো আসে ক্রমে। ওই যে-ভদ্রলোক এক শিশুর পিঠে লম্বা নলাকৃতি স্টেথো দিয়ে তার শ্বাসের শব্দ শুনছেন, তিনি হলেন ফরাসি চিকিৎসক রেনে লায়েনেক, আঠারো-উনিশ শতকের মানুষ, স্টেথোস্কোপের আবিষ্কর্তা। আর যিনি গোলগাল শিশুটিকে টিকা দিচ্ছেন, ইনিও আঠারো-উনিশ শতকেরই, ইংরেজ চিকিৎসক-বিজ্ঞানী এডোয়ার্ড জেনার, স্মলপক্সের ভ্যাকসিনের স্রষ্টা। আর ওই শিশুটি বছর আষ্টেকের জেম্‌স ফিপ্‌স, জমিহীন গরিব চাষি পরিবারের সন্তান, জেনারের বাগানে খাটত। তার ওপর বহুবারই নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন ডাক্তারবাবুটি। পরবর্তীকালে সপরিবার তার থাকার বন্দোবস্তও করে যান একটি কটেজ দান করে। সেটি এডোয়ার্ড জেনার সংগ্রহালয় হয়েছে গত শতকের শেষার্ধে। আরেক জন, সেই যে বৃদ্ধ মানুষটি এক শিশুকে পরীক্ষা করছেন তার মায়ের সামনে, তিনি গ্রিক চিকিৎসক বিখ্যাত হিপোক্রেটিস, খ্রিস্টজন্মেরও বহুকাল আগের মানুষ, চিকিৎসাজগতের আদিপিতা। তাঁর নামেই তো আজও শপথ নেন চিকিৎসকরা। পেশা হিসেবে চিকিৎসাকে নেওয়া যেমন, তেমনি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে দেখার ভাবনাতেও তাঁকে পথিকৃতের মর্যাদাই দেওয়া হয়েছে।

 

আর এঁদের নিয়ে ছবি এঁকেছেন রবার্ট অ্যালান টম। জন্ম ১৯১৫-য়, মার্কিন মুলুকে মিশিগান রাজ্যের গ্র্যান্ড র‍্যাপিড্‌স-এ। পার্শ্ববর্তী ওহিও রাজ্যের রাজধানী শহর কলোম্বাসে ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস থেকে স্নাতক হন। শিক্ষা চিত্রশিল্পী রবার্ট ব্র্যাকম্যান (১৮৯৮-১৯৮০)-এর কাছেও হয়েছিল। বৃহদাকার অবয়ব ছাড়াও প্রতিকৃতি আর স্টিল লাইফ বা বস্তুচিত্রের শিল্পী হিসেবে ব্র্যাকম্যান বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তাঁর ছাত্র, অর্থাৎ রবার্ট টমের কাজকর্মের সূচনা ১৯৩৯ সালে আমেরিকার বিখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটোরস আর ডেট্রয়েট এডিশন কোম্পানির ইলাস্ট্রেটর বা চিত্রকর হিসেবে। বছর কয়েকের ভেতরই স্বাধীনভাবে কাজকর্মের শুরু (১৯৪৫)। কিম্বারলি-ক্লার্ক করপোরেশন,যারা শল্যচিকিৎসা এবং সাধারণ চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াও স্যানিটারি পেপারের প্রস্তুতকারক সংস্থা হিসেবে বিশেষ পরিচিত, তাদের বরাত পেয়ে কাজ করেছেন গ্রাফিক বা ভিসুয়াল কমিউনিকেশনের ওপর। আবার  টেলিফোন কোম্পানি ইলিনয় বেল ও মিশিগান বেল এবং অটোমোবাইল সংস্থা শেভরোলে মোটোর কার কোম্পানির বরাত পেয়েও বহু ছবি এঁকেছেন। এসবের মধ্যে ইলিনয় আর মিশিগানের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ইতিহাস সংক্রান্ত, শেভরোলের ক্ষেত্রে বেসবলের ইতিহাস নিয়ে।  

আরও পড়ুন
কলকাতার একটি অঞ্চলের নাম এই মাছের নামে, কালের ফেরে সেই মাছেরাই হারিয়েছে অস্তিত্ব

রবার্ট অ্যালান টমের চিত্রমালা: ওষুধ আর চিকিৎসার যুগলবন্দি ইতিহাস
স্মলপক্সের প্রথম টিকা দিচ্ছেন ইংরেজ চিকিৎসক-বিজ্ঞানী এডোয়ার্ড জেনার (১৭৪৯-১৮২৩), বছর আটেকের জেম্‌স ফিপ্‌স (১৭৮৮-১৮৫৩)-কে

কিন্তু এসবের বাইরে তাঁর সর্বাধিক পরিচিতি বোধ হয় ফারমেসি বা ওষুধ প্রস্তুতের ইতিহাস সংক্রান্ত চল্লিশটি এবং মেডিসিন বা রোগ নিরাময়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত ইতিহাস নিয়ে পঁয়তাল্লিশটি ছবির জন্যই হয়েছিল। যার খুবই সামান্য অংশ আমাদের গোচরে এসেছিল একদা। ফারমেসি পর্বের ষোলোটি হয়েছিল ব্যাবিলন, চীন, মিশর, পারস্য আর ইউরোপ অঞ্চলের প্রাচীন সভ্যতার ওষুধ প্রস্তুতকারকদের নিয়ে। আর বাকি চব্বিশটি হয়েছিল তাঁর স্বদেশাঞ্চলিক অপেক্ষাকৃত আধুনিক সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা মনে রেখে। ফারমেসি আর মেডিসিন উভয় পর্বের চিত্রমালারই জন্ম গত শতকের পাঁচের দশকে। আমেরিকার সবচেয়ে পুরোনো আর একসময়ের সর্ববৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা পার্ক-ডেভিস (প্র. ১৮৬৬)-এর বরাত পেয়ে করেছিলেন। মিশিগানের ডেট্রয়েটে ছিল এদের প্রধান কার্যালয়। সেখানেই তাদের ওষধি উদ্যান আর গবেষণা কেন্দ্রও গড়ে উঠেছিল। পরে অবশ্য ১৯৭০-এ ওই সংস্থা ওয়ারনার ল্যাম্বার্টের অধিগৃহীত হলেও, ২০০০ সালে বিখ্যাত ফাইজার করপোরেশন তা অধিগ্রহণ করে। এখন নাকি সেই পুরোনো গবেষণা কেন্দ্র হোটেলে পরিণত হয়েছে।  

  

যাই হোক, ওষুধ প্রস্তুত আর চিকিৎসা সংক্রান্ত উভয় দিকের যত ছবি এক এক করে দেখা গেল, তা থেকে এটুকু অন্তত বোঝা গেছে, বিবিধ প্রাচীন সভ্যতা থেকে তাঁর সমকালের যুক্তরাষ্ট্র অবধি চিকিৎসাজগতের উল্লেখযোগ্য বিষয় বা ঘটনার পাশাপাশি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান বিশেষের গুরুত্ব বুঝে সামগ্রিকভাবে তারই চিত্ররূপ দিয়েছিলেন রবার্ট অ্যালান টম। সেখানে ব্যাবিলোনিয়া, মিশর, পারস্য, গ্রিস, রোম, আরব ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকা, চীন, ভারতের মতো প্রাচীন সভ্যতার দেশও প্রাসঙ্গিক হয়েছিল। ওষুধ আর চিকিৎসার ক্ষেত্রে অগ্রগতির দিকগুলো তিনি আবহমানের চালচিত্রে রেখেই সাজিয়েছিলেন। তার জন্য অবশ্য আলাদাভাবেই প্রাচীনের পাশাপাশি আধুনিক ওষুধ নির্মাণ সংস্থার গবেষণাগার এবং কারখানার জটিল, বিশাল রূপের ছবিও তাঁকে ধরতে হয়েছিল ক্যানভাসে। নিখুঁত ফোটোগ্রাফির মতো করেই সেসব চিত্রিত করেছিলেন। সে দক্ষতাও প্রণম্য। ছবিগুলির প্রাসঙ্গিক পরিচয় জানলে, তখনই এই চিত্রমালার সার্থকতা উপলব্ধি করা সম্ভব দর্শকের পক্ষে। নয়তো কেবল চোখের দেখায় তার গুরুত্ব বোঝা মুশকিল। কোনো বিমূর্ত চিত্র না হলেও, বিভিন্ন জাতির ইতিহাস জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে, তা কি আর খামখেয়ালি হয়ে দেখা যায়?

আরও পড়ুন
২০০০ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল যে ফল, আবারও খুঁজে পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা

রবার্ট অ্যালান টমের চিত্রমালা: ওষুধ আর চিকিৎসার যুগলবন্দি ইতিহাস
নিরীক্ষারত ফরাসি রসায়নবিদ ও জীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫)

ছবি সবই এঁকেছিলেন তেলরঙে, লম্বা-চওড়ায় পাঁচ ফুটের মতো ম্যাসোনাইটের ওপর। গবেষণার প্রয়োজন ছিল ভালোরকমই। তার জন্য অবশ্য তাঁকে বিপুল ঘুরতেও হয়েছিল, সরেজমিন তদন্তে খুটিনাটি বিষয় জানার তাগিদে। হিসেবিরা বলেন, প্রায় আড়াই লক্ষ মাইল ঘুরেছিলেন আমেরিকা, ইউরোপ মিলিয়ে। পরে সেসব ছবির প্রদর্শনীও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ইন্সটিটিউশন, ডেনভার ইন্সটিটিউট অফ আর্টস, নিউ ইয়র্ক মেট্রোপোলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট, ওরিয়েন্টাল ইন্সটিটিউট অফ শিকাগো ছাড়াও ফ্রান্সের রাজধানী শহরে ওতেল দে-জঁভালিদ-এও। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও তাঁর ছবির প্রদর্শন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিভবন হোয়াইট হাউসেও তাঁর ছবি জায়গা করে নিয়েছে।  

 

অনেক ছবিই আবার আলাদাভাবে লিথো প্রিন্ট করে পত্রিকাতেও কখনো প্রকাশও পেয়েছে যেমন, পাশাপাশি বই হিসেবেও সংকলিত হয়েছে। সেরকম বই একদা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্কুল থেকে উত্তীর্ণ প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানা যায়। তখনকার এক ছাত্র পরবর্তীকালে ওই প্রতিষ্ঠানেরই কর্তাব্যক্তিদের একজন হয়ে ওঠার পর সে-কথা জানিয়ে বলেছিলেন, সামগ্রিকভাবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই কাজের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষত আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, যেহেতু শিল্পীও আমাদের এই রাজ্যের মানুষ হিসেবে জড়িয়ে আছেন। একথা বলার সময় সেই বইখানা তাঁর সংগ্রহে থাকার কথা জানাতেও কসুর করেননি।  

আরও পড়ুন
দীর্ঘ ২৭০০ বছর ধরে দেশ শাসন করে চলেছে এই রাজপরিবার, ১২৬ জন সম্রাট বসেছেন সিংহাসনে

রবার্ট অ্যালান টমের চিত্রমালা: ওষুধ আর চিকিৎসার যুগলবন্দি ইতিহাস
নিজের হাতে তৈরি লেন্স দিয়ে আণুবীক্ষণিক জীব দেখছেন ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টোনি ভান লেবেনহোক (১৬৩২-১৭২৩)

জীবনের অনেকটা সময়ই রবার্ট অ্যালান টমের ডেট্রয়েট অঞ্চলেই কেটেছে।পরে দক্ষিণে টেক্সাসের ডালাস অঞ্চলে বাড়ি করেছিলেন। সেখান থেকেই ১৯৭৯সালের ডিসেম্বরে সস্ত্রীক কার্যোপলক্ষ্যে যান উত্তরে মিশিগানে। সেখানকার আলমা অঞ্চলে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁদের উভয়েরই জীবনান্ত হয় ওই মাসের শেষ দিনটিতে। চৌষট্টি পূর্ণ করেছিলেন মার্চের চৌঠা। পঁয়ষট্টি পূর্তি আর হয়নি। কিন্তু জীবন যত ছোটোই হোক-না-কেন, কীর্তি তার চেয়ে অনেক বড়ো বলেই স্মরণীয় হয়ে ওঠে নাম, কে না জানে! 

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
কবি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও গ্রন্থ-সম্পাদক। উল্লেখযোগ্য বইগুলি: কবিতা : 'সমাচার দর্পণ', 'মায়াবন্দর', 'খণ্ডিত শ্লোকের দিনে', 'চন্দ্ররেখার সনেট', 'ছিন্ন ডুরি জোড় দিয়ে'। গদ্য: 'কলকাতার রঙ্গিণীকথা'। অনুবাদ : 'কবীর ও তাঁর কবিতা', 'কবীর-বীজক ও অন্যান্য কবিতা'। সম্মাননা : পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি-র লীলা রায় স্মারক পুরস্কার (২০০২), সাহিত্য অকাদেমি অনুবাদ পুরস্কার (২০০৫)

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!