১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

বিজেপিতে যাওয়ার পরের দিনই কপিল সিব্বল এবং শশী থারুরের তীব্র কটাক্ষের মুখে জিতিন প্রসাদ

জিতিন প্রসাদ বুধবার‌ই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন। তার আগে কংগ্রেসের যে ২৩ জন নেতা একত্রে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে দলের কর্মপদ্ধতির পরিবর্তনের জন্য সুর চড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। এই ২৩ জনের গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য হলেন কপিল সিব্বল এবং শশী থারুর। তাদের সঙ্গে জিতিন প্রসাদের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক বলে নানা সময়ে জানা গিয়েছে। কিন্তু বিজেপিতে যাওয়ার পরে সেই জিতিন প্রসাদকে তীব্র আক্রমণ করলেন এই দুই কংগ্রেস নেতা।

 

কপিল সিব্বল সরাসরি টুইট করে প্রশ্ন তোলেন, “কোন প্রসাদের লোভে জিতিন প্রসাদ বিজেপিতে গিয়েছেন?” সেই সঙ্গে তার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, “হতে পারে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সবাইকে চমক দেওয়ার জন্য বিজেপির এটা একটি প্রচেষ্টা।” সেইসঙ্গে জিতিন প্রসাদের নীতিগত অবস্থান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি উত্তরপ্রদেশের এই ব্রাহ্মণ নেতার কাছে নীতি-আদর্শের যে কোনও মূল্য নেই তা প্রমাণ হয়ে গেল।

আরও পড়ুন
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন বিএস ইয়েদদুরাপ্পাই

তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দেখা গিয়েছে শশী থারুরকে। তিনি টুইট করেন, “রাজনীতি কি আদর্শ বর্জিত একটি পেশা মাত্র? নীতি বাদ দিলে রাজনীতির কোন‌ও মূল্য থাকে না। কেবল মাত্র একজন নিতী আদর্শহীন রাজনীতিবিদ‌ই পারেন আইপিএলের দলবদলের মত একদল থেকে আরেক দলে অবলীলায় চলে যেতে।”

 

একটি প্রতিবেদনে শশী থারুর লিখেছেন, “বড় ভাই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পর জিতিন প্রসাদ ঠিক একই কাজ করলেন। কোন‌ও ব্যক্তিগত তিক্ততা ছাড়াই আমি তাদের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছি।” এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠগুলির অন্যতম ছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং জিতিন প্রসাদ। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে তারা দু’জনেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জুতোতে পা গলিয়ে বসে আছেন। যারা একসময় বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির সমালোচনা করেছে তারা আজ সেই বিজেপির পতাকা তলে আনন্দের সঙ্গে সামিল হয়ে গিয়েছেন।”

আরও পড়ুন
সু-কি’কে আরও কোণঠাসা করতে মায়ানমারের জুন্টা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনলো

শশী থারুরের দাবি জিতিন প্রসাদের এই পদক্ষেপের ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে রাজনীতি তবে কি? তবে কি একজন দক্ষ কর্মচারী যেমন একের পর এক কর্পোরেট সংস্থা বদলান, সেরকম রাজনীতিবিদরাও কি যেখানে বেশি লাভবান হবেন সেই দলে সামিল হতে পারেন? তারপর নিজেই এর উত্তর দিয়েছেন শশী থারুর। তার দাবি আদর্শকে ভুলে গিয়ে কখনোই রাজনীতি করা সম্ভব নয়। রাজনীতিবিদরা নিজেদের দল পছন্দ করে নিতে পারেন না। তিনি যে আদর্শে বিশ্বাস করেন সেই আদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের সঙ্গী হয়ে ওঠেন মাত্র।

 

উল্লেখ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর জিতিন প্রসাদের তীব্র সমালোচনা করছেন কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তবে এই বিষয়ে রাহুল গান্ধী এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি। যদিও কংগ্রেস সূত্রে খবর তারা এই বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। কারণ উত্তর ভারতের রাজনীতিতে জিতিন প্রসাদ বড়ো নাম হলেও তিনি তৃণমূল স্তরের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। তাই তার এই দলবদলের ফলে উত্তরপ্রদেশে খুব একটা বড়ো প্রভাব পড়বে না। তবে কংগ্রেসের আর একটি অংশের আশঙ্কা রিতা বহুগুণা যোশীর পর জিতিন প্রসাদ একই পথ অনুসরণ করে বিজেপিতে চলে যাওয়ায় সে রাজ্যে কংগ্রেসের ব্রাহ্মণ ভোট ব্যাঙ্কে ভালোমতো ধ্বস নামতে পারে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!