৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

মিশরে যৌনকর্মী নয় আছে গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী, টাকা দিয়ে কেনা স্ত্রীয়ের মেয়াদ থাকে মাত্র দশ কুড়ি দিন

মিশরের সমাজ অত্যন্ত রক্ষণশীল। সেখানে মেয়েদের থেকে পুরুষদের শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। এদিকে এই মুসলিম প্রধান দেশে ইসলামী আইন মেনে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রেও সামাজিকভাবে যথেষ্ট বাধা আছে। এমনকি এখানকার পুরুষরাও কোন‌ও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে সচরাচর জড়ায় না। তাই মিশরে আর পাঁচটা জায়গার মতো গড়পড়তা পতিতালয় সেভাবে নজরে পড়ে না। তাই বলে এখানে যৌনকর্মী নেই ভাবলে ভুল হবে। বিশেষ করে এই দেশে পিরামিডের আকর্ষনে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ছুটে আসে। তাই এখানেও যৌনকর্মীরা আছে, কিন্তু একটু ভিন্নভাবে এখানে দেহ ব্যবসা চলে। এই দেশের যৌনকর্মীদের বলা হয় গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী!

 

আসলে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমানের মত উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে প্রতিবছর অসংখ্য ধনী পর্যটক গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে আসে এই দেশে। এখানে তথাকথিত দেহব্যবসা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা একরকম নিরামিষ জীবন কাটাতে বাধ্য হত। এই সময়েই আইনকে ফাঁকি দিয়ে গ্রীষ্মের ছুটিটা আনন্দে, মজায় কাটানোর জন্য তারা মিশরের তরুণীদের বিয়ে করতে শুরু করে!

আরও পড়ুন
মিশরের রহস্যময়ী রানী ক্লিওপেট্রার মমির সন্ধান করতে গিয়ে মিলল সোনার জিভ‌ওয়ালা ১৬ টি মমির

মিশরে যৌনকর্মী নয় আছে গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী, টাকা দিয়ে কেনা স্ত্রীয়ের মেয়াদ থাকে মাত্র দশ কুড়ি দিন

না, যদি ভাবেন এখান থেকে বিয়ে করে তারা নিজেদের দেশে সেই স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায় তাহলে খুব ভুল করবেন। আসলে যে কদিন মিশরে তারা ছুটি কাটায় সেই কদিনের জন্য তারা এই মিশরী তরুণীদের যৌন সম্ভোগ করে থাকে। কিন্তু স্ত্রীয়ের পরিচয় তাদের রেখে দেওয়ার জন্য সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে না। এজন্য তারা মিশরের বইয়ের দোকানে কিনতে পাওয়া বিয়ের গড়পড়তা চুক্তিপত্রের কাগজে একটা ওপর ওপর স্বাক্ষর করে রাখে। এতে ওই বিদেশি পর্যটকদের দুটো সুবিধা হয়। তারা যেমন প্রথা মেনে বিয়ে করে, তেমনই তা চূড়ান্ত চুক্তি অর্থাৎ সরকারি খাতায় নথিভূক্ত না থাকায় বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রেও খুব একটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

 

মিশরীয় তরুণীদের এই বিয়ের মেয়াদ থাকে বড়জোর দশ থেকে কুড়ি দিন। এর বিনিময় অবশ্য গরিব মিশরীয় পরিবারগুলি ভারতীয় মুদ্রায় ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৯০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকে। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী মিশরীয় তরুণীদের চাহিদা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হয়। অনেক সময়ই পরিবারের সদস্যরাই তাদের পরিবারের মেয়েকে গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী হিসেবে দেহ ব্যবসার পথে এগিয়ে দেয় একটু সচ্ছলতার মুখ দেখার জন্য। পরবর্তীকালে অনেকেই এই গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী হওয়াকেই নিজের জীবনের পেশা করে ফেলে। তবে এক্ষেত্রে দালাল রাজের দাপট মারাত্মক। তারাই মূলত বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন স্ত্রীদের পরিচয় করিয়ে দেয় এবং বিয়ের কাগজপত্রের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার বিষয়টিও তারাই খেয়াল রাখে।

আরও পড়ুন
সন্তানকে মানুষ করতে ৪৩ বছর পুরুষের পরিচয়েই কাটিয়ে দিলেন এই মহিলা!

মিশরে যৌনকর্মী নয় আছে গ্রীষ্মকালীন স্ত্রী, টাকা দিয়ে কেনা স্ত্রীয়ের মেয়াদ থাকে মাত্র দশ কুড়ি দিন

মিশরের রাজধানী কায়রোর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এই ঘটনার দাপট সবচেয়ে বেশি। কারণ রাজধানী কায়রোতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা একটু কম হলেও যেই রাজধানীর বাইরে পা রাখা যাবে তখনই বোঝা যাবে মিশরে দারিদ্র্য কি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই দারিদ্রতার সুযোগেই ঘটে চলেছে এক ভয়ঙ্কর নারী নির্যাতন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!