১৩ জুন, ২০২১রবিবার

১৩ জুন, ২০২১রবিবার

বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি, ঘুমের মধ্যেই চলে গেলেন পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

বরাবর স্রোতের বিপক্ষে হেঁটেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে সেই স্রোতের বিপক্ষে হেঁটেই নিরবে চলে গেলেন তিনি। ঘুমের মধ্যেই প্রয়াত হন এই প্রবাদপ্রতিম পরিচালক। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালিসিস হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। তিনি শুধু চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন তাই না, ছিলেন একজন কবি। তাঁর প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত অনুরাগীরা।

 

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত অন্যান্য দিনের মতোই নিজের ঘরে শুয়ে ছিলেন। সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ তার স্ত্রী চা খাওয়ার জন্য ডাকছে যান। কিন্তু তিনি সাড়া না দেওয়ায় গায়ে হাত দিয়ে দেখেন শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। পরে চিকিৎসক জানিয়েছেন বাড়ির লোকের নজরে আসার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে তার। মনে করা হতো তিনি ঋত্বিক-সত্যজিৎ-মৃণাল এই ত্রয়ীর উত্তরসূরি। বরাবরই তিনি বক্স অফিসের কথা না ভেবে মনের মত সিনেমা বানিয়ে এসেছেন। তার তৈরি একাধিক সিনেমা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

 

১৯৪৪ সালের ১১ ই পুরুলিয়ার আনড়াতে জন্ম বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের। তার বাবা তারকনাথ দাশগুপ্ত ছিলেন ভারতীয় রেলওয়ের একজন চিকিৎসক। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল অর্থনীতির একজন অধ্যাপক হিসেবে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত শ্যামসুন্দর কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটি কলেজে তিনি অধ্যাপনা করেছেন।

আরও পড়ুন  
কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া অনলাইন প্লাটফর্মে থাকা টিকা সংক্রান্ত তথ্য রাজ্যগুলি ব্যবহার করতে পারবে না

অধ্যাপনা করতে করতেই ১৯৬৮ সালে দশ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ১৯৭৮ সালে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘দূরত্ব’ তৈরি করেন এরপর তিনি। আর পিছনে ফিরে তাকাননি। একের পর এক কাল জয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের। একে একে নিম অন্নপূর্ণা, তাহাদের কথা, গৃহযুদ্ধ, ফেরা, মন্দ মেয়ের উপাখ্যান, কালপুরুষ, জানালা আনোয়ার কা আজিব কিসসা প্রভৃতি চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

 

১৯৭৮ সালের তৈরি ‘দূরত্ব’ এর জন্য তিনি সর্বপ্রথম জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর লাল দরজা, কালপুরুষ, মন্দ মেয়ের উপাখ্যান, ফেরা, তাহাদের কথা তার অসংখ্য সিনেমা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

 

বুদ্ধদেব দাসগুপ্তের দুই মেয়ে আছে। দুজনেই মুম্বাইতে থাকেন। প্রথমে পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল মেয়েরা আসলে তবেই পরিচালকের শেষকৃত্য হবে। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে দ্রুত আসা সম্ভব নয় বলে মেয়েদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই পরিবার ঠিক করেছে আজই পরিচালকের শেষকৃত্য সেরে ফেলা হবে। দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট মহাশ্মশানে পরিচালকের শেষকৃত্য হবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেত্রী তথা চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন, সুমন মুখোপাধ্যায়রা পরিচালকের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!