৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

মিশরে আবিষ্কৃত ৪০০০ বছর আগের মমিতে প্রাচীনতম স্ত্রীরোগ-চিকিৎসার প্রমাণ পেলেন গবেষকরা

 

 

গ্রানাডা এবং জেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা চার হাজার বছর আগে পেলভিসে (মেরুদণ্ডের নীচের অংশ ও নিতম্বের মধ্যকার অস্থিকাঠামো) গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত এক মিশরীয় মহিলার মমি উদ্ধার করে তার শারীরিক আঘাতের প্রমাণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। আসোয়ান (মিশর) এর জেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউজা) নেতৃত্বে কুব্বেট এল-হাওয়া প্রকল্প তৈরি হয়। এই প্রকল্পে গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউজিআর) বিজ্ঞানীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।  সেই প্রকল্পে গবেষকরা ৪০০০ বছর আগে মিশরে বসবাসকারী এক মহিলার উপর প্রাচীনতম স্ত্রীরোগ- চিকিৎসা প্রয়োগের প্রমাণ পেয়েছেন। ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছিল ১৮৭৮-১৭৯৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে

 

২০১৭ সালে নীল নদের পশ্চিম তীরে কুব্বেট এল-হাওয়া প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত হওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় আন্দালুসিয়ার গবেষকরা কিউএইচ৩৪ এর সমাধিতে একটি খাড়াই খাদ খুঁজে পান, যার মধ্যে দিয়ে একটি সমাধি কক্ষে প্রবেশ করা যায়। ওই সমাধি কক্ষে ১০টি অক্ষত কঙ্কাল পাওয়া গেছিল।

 

সমাধিস্থল পরীক্ষা করছেন এক গবেষক

 

মমিকৃত করার কৌশল সে সময় খুব একটা কার্যকর ছিল না, অন্তত আপার মিশরের এই প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গাটিতে। জানা গিয়েছে যে, সেখানে সমাধিস্থ ব্যক্তিরা সাধারণত সমাজের উচ্চশ্রেণীভুক্ত ছিলেন এবং তাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হত। এই বিশেষ মমিগুলি খুব ভালভাবে সংরক্ষিত এবং লিনেন স্ট্রিপ পুরু স্তরে জড়ানো হত। কখনও কখনও শুকনো নরম টিস্যুর অবশেষও জড়ানো পাওয়া গিয়েছে এই মমিগুলিতে।

 

আরও পড়ুন

বিশ্বের সবথেকে বয়স্ক ট্যাটুশিল্পী ১০৩ বছর বয়সেও মানুষের শরীরে এঁকে দিচ্ছেন বিশেষ ট্যাটু

 

এই সম্পূর্ণ গবেষণাটর বিষয়টির পরিচালক ফরেনসিক নৃতত্ত্ববিদ এবং ইউজিআর-এর এমেরিটাস অধ্যাপক মিগুয়েল বোটেলা ব্যাখ্যা করেছেন যে, “মমিগুলির কবরের মধ্যে ছিল নানান জিনিসপত্র (সাধারণত বিভিন্ন ধরনের নেকলেস); বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে, তাদের মুখ পিচবোর্ডের মুখোশ দ্বারা আবৃত ছিল; সেগুলি দুটি আয়তক্ষেত্রাকার সরোকফাগির ভিতরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, একটির সারোকফাগির ভেতর ছিল আরেকটি। এই হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপিগুলো ঘুন এবং উইপোকার সংক্রমণের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে”।

 

কুবেট-এল-হাওয়া -র এই সমাধিস্থলে পাওয়া গেছিল মমিটি

 

নৃতত্ত্ববিদদের দলটি যে মমিটি উদ্ধার করেছিল, সেটি সম্ভবত এখানে কবর দেওয়া শেষ মমি ছিল। এই মমিটি সামাজিকভাবে এক উচ্চ শ্রেণীর মহিলার, যার নাম সাতজেনি। এই ধরণের নাম অবশ্যই এই অঞ্চলের উচ্চ শ্রেণীর মধ্যে প্রচলিত ছিল, তাই মমিটির নামকরণ হয়েছিল সাতজেনি এ নামে। ওই মমিটি কফিনের বাইরের দিকে বাকি থাকা অংশে সংরক্ষিত করা ছিল।

 

আরও পড়ুন

টুইটার ব্যবহার করে শিকার খুঁজে নিত জ্যাক দ্য রিপার এই সিরিয়াল কিলার, গতকাল দেওয়া হল ফাঁসির আদেশ

 

এই মমিটির ব্যান্ডেজ করা পা আর পেলভিসের (মেরুদণ্ডের নীচের অংশ ও নিতম্বের মধ্যকার অস্থিকাঠামো) নিচের অংশে এবং মোড়ানো লিনেনের নিচে, গবেষকরা একটি সেরামিকের বাটি খুঁজে পেয়েছেন। যার মধ্যে পোড়া জৈব দেহাবশেষ রয়েছে। কঙ্কালের দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করেছেন ইউজিআর গবেষক দল (অধ্যাপক বোটেলা দ্বারা পরিচালিত)। তারা নিশ্চিত করেছে যে মহিলাটি সম্ভবত পড়ে গিয়ে পেলভিসের হাড়ে গুরুতর চোট পান। 

 

গবেষকরা একটি সেরামিকের বাটি খুঁজে পেয়েছেন যার মধ্যে পোড়া জৈব দেহাবশেষ রয়েছে

 

এটা হতেই পারে যে, এই ব্যথা উপশম করতে, মহিলাকে সুগন্ধী দ্বারা চিকিৎসা করা হয়েছিল। যে ধরণের চিকিৎসার কথা সেই সময়ের আবিস্কৃত চিকিৎসা সংক্রান্ত প্যাপিরাসগুলিতে স্ত্রীরোগ সমস্যার সমাধান বিষয়ে বর্ণনা করা ছিল। জেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আবিষ্কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে এটি শুধুমাত্র উপশম হওয়া স্ত্রীরোগ চিকিৎসার দলিল নয়, বরং ওই  প্যাপিরাসটিতে সুগন্ধী দ্বারা চিকিৎসা পদ্ধতিরও বর্ণনা করা হয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!