৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

৪ আগস্ট, ২০২১বুধবার

কাঁকড়াবিছের থেকে গ্রামকে বাঁচাতে নিজেকে প্রাকৃতিক মমি বানিয়েছিলেন এই হিমাচলের এই ভারতীয় লামা

 

 

 

কলম্বাস যখন সবেমাত্র আমেরিকায় পা রাখবেন, তখন দূর ভারতবর্ষে এক বৃদ্ধ বৌদ্ধ ভিক্ষুক নিজেকে মমি বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন – যাতে তার  গ্রাম কাঁকড়াবিছের আক্রমণ থেকে মুক্ত হতে পারে। সাংঘা তেনজিন নামে পরিচিত এই লামার মমির প্রাকৃতিক মামিফিকেশন হয়েছে।কার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে জানা গেছে,এই মমিটির বয়স ৫৫০-৬০০ বছর।

সারা পৃথিবীতে প্রাকৃতিক মমির সংখ্যা খুবই কম। তার কারণ হল, প্রাকৃতিক মামিফিকেশনে দেহ সংরক্ষণের জন্য চরম তাপমাত্রা এবং শুষ্ক বায়ু প্রয়োজন। এমনিতে যে সমস্ত মমি পাঠ্যপুস্তকে বা জাদুঘরে দেখা যায়, সেগুলিকে ‘এনবামিং’ নামক একটি রাসায়নিক পদ্ধতির মাধ্যমে মামিফিকেশন করা হয় এবং লিনেন কাপড়ে মুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক মমির ক্ষেত্রে এমন কোন রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় না।

 

সাংঘা তেনজিন-এর মমি

 

তবে জাপান এবং তিব্বতের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মামিফিকেশনের এক অনন্য পদ্ধতি রয়েছে। লামা জীবিত অবস্থাতেই আস্তে আস্তে অনাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং প্রথমেই যব, চাল এবং মটরশুটি খাওয়া বন্ধ করেন যা দেহে ফ্যাট যুক্ত করে। এছাড়াও প্রস্তুতির জন্য, তিনি তার ত্বকে বরাবর মোমবাতি ঘষেন। এটি তার দেহত্বক শুকনো করে। লামা বসে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ অনাহারে দেহত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পরে, মৃতদেহটিকে তিন বছরের জন্য একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে রাখা হয়।এতে লামার দেহ আরও শুষ্ক হয়ে যায়।এরপর আবার মোমবাতি ঘষা। ক্রমে লামার দেহটি মূর্তির মত হয়ে যায়। আজ অবধি সারা পৃথিবীতে মাত্র ৩০টি এমন মমি পাওয়া গিয়েছে। এর অধিকাংশই পাওয়া গিয়েছে জাপানের হনশু-তে।

 

আরও পড়ুন

আপনার কথা আমায় বলুন, আমি আপনাকে ১০ টাকা দেব- মানুষের মনকে সারিয়ে তোলার অভিনব উদ্যোগ পুণের তরুণের

 

১৯৭৫ সালে উত্তর ভারতে একটি ভূমিকম্প হয়।ভূমিকম্পের ফলে প্রাচীন এক সমাধিস্থান থেকে একটি সৌধ বেরিয়ে আসে যার ভিতর সাংঘা তেনজিন-এর মমিটি ছিল। ২০০৪ সালে, স্থানীয় পুলিশ সমাধিটি খনন করে মমিটি সরিয়ে দেয়। মমিটি লক্ষণীয়ভাবে সংরক্ষিত ছিল।মমিটির ত্বক অক্ষত এবং মাথায় চুল ছিল এবং মমিটি ছিল বসা থাকা অবস্থায়। মমিটির গলায এবং উরুতে একটি দড়ি রয়েছে (কয়েকটি বৌদ্ধ নথিতে লিপিবদ্ধ একটি রহস্যমূলক অভ্যাস)। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, যখন এই জনপদে প্রচুর কাঁকড়াবিছের আক্রমণ ঘটতে থাকে তখন তিনি তাঁর অনুগামীদের বলেন, তাঁর দেহটিকে মমি বানাতে এবং যখন তাঁর আত্মা দেহ ছেড়ে চলে যায়, তখন আকাশে হঠাৎ রামধনু ওঠে এবং কাঁকড়াবিছেগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়।

 

প্রাকৃতিক এই মমিটির বয়স ৫৫০-৬০০ বছর

 

আরও পড়ুন

১৩ জন প্রকাশকের মধ্যে ১২ জনের কাছেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন হ্যারি পটারের স্রষ্টা, ১৩ বারে তৈরি হয় ইতিহাস

 

সাংঘা তেনজিনের মমিটি এখন হিমাচল প্রদেশের স্পিতির গুয়ে জনপদের একটি মন্দিরে রাখা আছে। এই মন্দিরটি যে সমাধিস্থল থেকে মমিটি খনন করে পাওয়া গিয়েছিল তার থেকে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং ইন্দো-টিবেট বর্ডার পুলিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

7,808FansLike
19FollowersFollow

Latest Articles

error: Content is protected !!